ভূমিকা
এ অধ্যায়ে অণু ও পরমাণু সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। অণু ও পরমাণুর সমাবেশে পদার্থ গঠিত হয়। পদার্থ দুই প্রকার- মৌলিক ও যৌগিক পদার্থ। মৌলিক পদার্থের সংখ্যা নির্দিষ্ট। এ পর্যন্ত ১১১টি মৌলিক পদার্থ আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে প্রকৃতিতে পাওয়া যায় ৯২টি । যৌগিক পদার্থ একাধিক মৌলিক পদার্থ দ্বারা গঠিত। পদার্থের মধ্যে অণুগুলো একপ্রকার শক্তি দ্বারা আবদ্ধ থাকে। এই শক্তিকে আন্তঃআণবিক শক্তি বলে। পূর্বে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল পরমাণু অবিভাজ্য। কিন্তু এখন পরমাণুকে ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউটন, মেসন ইত্যাদি কণিকায় বিভাজন করা যায়।
শিখনফলঃ
- পরমাণু ও অণুর সংজ্ঞা বলতে পারবে।
- অণু প্রধানত কত প্রকার ও কি কি তা বিবৃত করতে পারবে।
- অণু ও পরমাণুর পার্থক্য নিরূপণ করতে পারবে
- হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, ক্লোরিণ অণু, এরা প্রত্যেকে দুটি পরমাণু দ্বারা গঠিত তা বর্ণনা করতে পারবে।
- নিস্ক্রিয় গ্যাস হিলিয়াম, নিয়ন ও আর্গন - এর অণু একটি মাত্র পরমাণু দিয়ে গঠিত তা ব্যাখ্যা করতে পারবে ।
- ডাল্টনের পরমাণুবাদ বা পরমাণু তত্ত্ব বলতে ও ব্যাখ্যা করতে পারবে।
শিখন-শেখানো কার্যক্রম
পূর্বজ্ঞান যাচাই
- পৃথিবীতে মোট মৌলের সংখ্যা কত ?
- পদার্থ কি? মৌলিক ও যৌগিক পদার্থ কি?
- একটি কলম দেখিয়ে বলুন এটা কী
- কলমকে ভাংতে ভাংতে ছোট করলে কী পাওয়া যাবে?
- একটি পদার্থকে কাটতে থাকলে কী ঘটবে? কাটতে থাকলে এক সময় অণু এবং আরও ছোট করলে পরমাণু পাওয়া যাবে।
- পরমাণুর কী?
- একটি পরমাণুর ব্যাস কত?
- অণু কী ?
একটি পদার্থকে কাটতে থাকলে কী ঘটবে? কাটতে থাকলে এক সময় অণু এবং আরও ছোট করলে পরমাণু পাওয়া যাবে।
|
| নিচের ভিডিওতে ক্লিক করুন এবং এ থেকে শিক্ষার্থীদের অণু এর ধারণা দিন। |
|---|
ছবিটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে কার্বন পরমাণুটি ব্যাখ্যা করতে বলুনঃ
| ছবি ও ভিডিওটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে বলুন। এর পর অণু ব্যাখ্যা করতে বলুন | ||||
|---|---|---|---|---|
|
শিক্ষার্থীদের দলীয়ভাবে নিচের কাজটি করতে দিন
1. হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, ক্লোরিণ অণু, এরা প্রত্যেকে দুটি পরমাণু দ্বারা গঠিত তা ব্যাখ্যা কর ।
2. নিস্ক্রিয় গ্যাস হিলিয়াম, নিয়ন ও আর্গন - এর অণু একটি মাত্র পরমাণু দিয়ে গঠিত তা ব্যাখ্যা কর ।
নোট
Note:
প্রাচীন কালে ভারতীয় দার্শনিক কণাদ এবং গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাসের মনে প্রশ্ন জাগে এ পৃথিবীর অসংখ্য পদার্থ কীভাবে গঠিত ? তারা বলেন, কোনো একটি পদার্থকে যদি বারবার খন্ড খন্ড করা যায় তাহলে এমন এক অবস্থায় আসে যে সেই ক্ষুদ্রতম পদার্থ খন্ডকে আর খন্ড করা যায় না। কণাদ এ ক্ষুদ্রতম কণার নাম দেন পরমাণু এবং ডেমোক্রিটাস এর নাম দেন অ্যাটম (Atom)। অ্যাটম শব্দের অর্থ অখন্ডনীয়। জন ডাল্টন ১৮০৩ সালে এ পরমাণু বা অ্যাটমের নতুন ধারণা দেন। তিনি বলেন যে, প্রতিটি মৌলিক পদার্থ ঐ পদার্থের অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা দ্বারা গঠিত। মৌলের এরুপ ক্ষুদ্রতম কণাকে বলা হয় সেই মৌলের পরমাণ বা অ্যাটম। দশ কোটি পরমাণুকে পাশাপাশি সাজালে মাত্র আধ ইঞ্চি বা ১.২৫ সেন্টিমিটার এর মত লম্বা হয়। একটি মৌলে যতগুলো পরমাণু আছে তাদের প্রত্যেকটি একই রকম। বিশেষ অবস্থায় পরমাণুকেও ভাগ করা সম্ভব। পরমাণুকে ভাঙলে পারমানবিক শক্তির ঊদ্ভব হয়।>
১৮১১ সালে অ্যামেদেও অ্যাভোগ্যাড্রু নামে একজন ইতালী বিজ্ঞানী বলেন যে, গ্যাসীয় মৌল হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, ইত্যাদি প্রকৃতিতে স্বাধীনরুপে থাকে না, থাকে দুটো পরমাণুর যুক্ত কণা রুপে। তিনি এরুপ কণার নাম দেন মলিকুল (Molecule)। এর অর্থ হল একাধিক পরমাণুর জোট।
পরমাণুর সংগাঃ
কোন মৌলিক পদার্থকে ভাগ করতে করতে যদি এমন সূক্ষ্ম কণায় পৌছানো যায়, তাকে আরও ভাগ করলে ঐ পদার্থের অস্তিত্ব নষ্ট হয়, স্বাধীন অস্তিত্ব আর থাকে না, এই অবস্থায় পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণাকে পরমাণু বলে।
অণু এর সংগাঃ
মৌলিক বা যোগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা সংশ্লিষ্ট পদার্থের বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে বাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে এবং যাকে আরও ভাগ করলে ঐ পদার্থের স্বাতন্ত্র লোপ পায় তাকে অণু বলে।
মৌলের একক পরমাণু এবং যৌগের একক অণু ।
প্রত্যেক মৌল তার নিজস্ব পরমাণু দ্বারা গঠিত। হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, ক্লোরিণ এদের প্রত্যেকের অণু দুটি পরমাণু দ্বারা গঠিত। নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গনের অণু একটি মাত্র পরমাণু দ্বারা গঠিত।
মৌলিক অণু এর সংগাঃ
একই মৌলের দুইটি বা তার বেশি পরমাণু একত্রে যুক্ত হয়ে যে অণু গঠন করে তাকে মৌলিক বা মৌল অণু বলে।
যৌগিক অণু এর সংগাঃ
ভিন্ন রকম বা ভিন্নধর্মী মৌলের দুইটি বা তার বেশি পরমাণু একত্রে যুক্ত হয়ে যে অণু গঠন করে তাকে যৌগিক বা যৌগ অণু বলে।
অণু ও পরমাণুর মধ্যে পার্থক্য
| পরমাণু | অণু |
| পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা | অণু মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা |
| সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কোনো কোনো মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। যেমন-হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি। | অণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে |
| পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। | অণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণের পূর্বে অণু পরমাণুতে বিশ্লিষ্ট হয়। |
| বিভিন্ন প্রকার পরমাণুর সংখ্যা সীমিত। এ পর্যন্ত ১১১ প্রকারের পরমাণু আবিস্কৃত হয়েছে। | পৃথিবীতে যৌগিক পদার্থের সংখ্যা অসংখ্য বলে অণুর সংখ্যাও অসংখ্য। |
| পরমাণুকে ভাঙলে ঐ মৌলের আর অস্তিত্ব থাকে না। | অণুকে ভাঙলে একই বা ভিন্ন মৌলের পরমানু পাওয়া যায়। |
মৌলিক ও যৌগিক অণু
| শিক্ষার্থীদের নিচের ছবি দেখিয়ে মৌলিক ও যৌগিক অণু এর ব্যাখ্যা দিন। | ||||
|---|---|---|---|---|
|
জ়োড়ায় কাজ়
আর্গন, হাইড্রোজেন, নিয়ন, ক্লোরিণ, হিলিয়াম, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, পানি, তু্ঁতে, রূপা, সোডা, ভিনেগার, তামা, চিনি , নাইট্রিক এসিড , দস্তা, টিন, কার্বন, লোহা, গন্ধক, সোনা, পারদ, সিলিকন, ফসফরাস, গ্যালিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, ক্রিপটন, ফ্লোরিণ পদার্থগুলোকে নিম্নলিখিত উপায়ে শ্রেণী বিভাগ কর।













