Summary: শিক্ষা একটি বিস্তৃত ক্ষেত্র। আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার যে কোন অংশে নতুন কোন ধারণার প্রয়োগ বা পরিবর্তন সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। উদাহরণ সরূপ আমরা নতুন পরীক্ষা পদ্ধতির কথা বলতে পারি। কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণ করা হলে কী কী সুফল আমরা পাব তার একটি চিত্র আমাদের কাছে পরিস্কার হয়েছে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নানান গুণীজনের লেখার মাধ্যমে। কিন্তু কাজটি সঠিক ভাবে প্রয়োগ না করা গেলে ব্যয়িত অর্থ অপচয়ের খাতায় চলে যাবে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়ার পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের যে সকল শিক্ষকেরা প্রশ্ন প্রণয়ন করবেন আর যারা পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করবেন তাদের রয়েছে এ বিষয়ে দক্ষতা ও সচেতনতার অভাব। এনসিটিবি (ন্যাশনাল কারিকুলাম এন্ড টেক্সটবুক বোর্ড) কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন পদ্ধতির ওপর দুই/তিন দিনের সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনের যে পদক্ষেপ নিয়েছে সেটি প্রশংসনীয় কিন্তু এত স্বল্প সময়ের এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শিক্ষকদের সত্যিকার অর্থে দক্ষ করে তুলছে কি না এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ আছে। তবে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজটি হচ্ছে। বেশীর ভাগ শিক্ষক বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় ব্যবহারের জন্য কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন নিজেরা তৈরী না করে বাজারে প্রচলিত গাইড বই থেকে তুলে দিচ্ছেন। ছাত্র-ছাত্রীরা কোন্ গাইড বই কিনবে তার প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ। এতে কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়ার মূল উদ্দেশ্য শুরুতেই ব্যর্থ হচ্ছে। অনেক শিক্ষকের কাছে নতুন ধরনের প্রশ্নকরণ বিষয়টিই অত্যন্ত জটিল। শহর ও গ্রামের মধ্যে মুল্যায়ন এর মাপকাঠিও ভিন্ন হবে। ফলে গ্রামে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের মেধা আগের চাইতে আরো দ্রুত হারিয়ে যাবে বলে আশংকা করলে তা অমূলক হবে না। এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন এমন একটি ব্যবস্থা বা কৌশলের যার মাধ্যমে একই মাপকাঠির আওতায় সকল শিক্ষার্থীকে আনা যাবে আর সাথে সাথে যেকোন পর্যায়ে কর্মরত শিক্ষকেরা তাদের দক্ষতার ধারাবাহিক উন্নয়নে সচেষ্ট হবার সুযোগ পাবেন। সঠিক মূল্যায়নের জন্য একটি পূর্ব শর্ত হল, যাকে মূল্যায়ন করা হবে তাকে মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত উপকরণ যেমন প্রশ্ন সম্বন্ধে আগে থেকে জানানো যাবে না। যদি জানানো হয় তবে শিক্ষার্থীর মনে রাখার ক্ষমতাটুকু ছাড়া আর কিছুই পরীক্ষার ফলাফল থেকে জানা যাবে না। নতুন পদ্ধতির বৈশিষ্ট এই যে, শিক্ষার্থী জানবে না কোন প্রশ্নটি তাকে পরীক্ষার খাতায় উত্তর করতে হবে। অর্থাৎ প্রশ্নের কখনই পুণরাবৃত্তি হবে না। এই গুণটি অর্জন করা সহজ নয়। তবে অসম্ভবও নয় যদি এই জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশকে সুপরিকল্পিত উপায়ে এ কাজে সম্পৃক্ত করা যায়। শিক্ষার মান উন্নয়নে আগ্রহী ও উদ্দ্যোগী সর্বস্তরের মানুষকে কি উপায়ে এক সূত্রে গাথা যায় তার কৌশল উদ্ভাবনের জন্যই বর্তমান প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের এই ১৫ দিন ব্যাপি ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন, কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নকরণে যে ধরণের মান প্রত্যাশিত তা অর্জনের পথে প্রথম পদক্ষেপ। আপনাদের সক্রিয় অংশ গ্রহণ ও অর্জিত সাফল্য আমাদের নিয়ে যাবে সাফল্যের দিকে। আমাদের চাওয়া সাফল্য আসতে সময় নেবে অনেকটা- এ বিষয়ে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই তবে শুরু না করলে সাফল্য আসবে না এটিও একটি ধ্রুব সত্য। আপনাদের অর্জিত দক্ষতার মূল্যায়ন করা হবে সুকঠোর ভাবে। নির্দিষ্ট মান অর্জন ব্যতিরেকে আপনি কোন প্রকার কর্মোদ্যোগের দায়িত্ব পাবেন না। আমরা চাইবো যে কাজটি আপনি করবেন তা যেন নির্মোহ হয়। সঠিক যোগ্যতা অর্জনের জন্য আপনার প্রয়াস যেন সর্বোচ্চ হয়। আপনি পারবেন -এ আমাদের গভীর বিশ্বাস। তবে সঠিক সময়টির জন্য আপনার ধৈর্য্য ও পরিশ্রম সঠিক হতে হবে। আপনার হাতেই তৈরী হবে নতুন বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। সকলের সাফল্য কামনা করছি।